বাংলাদেশে ল্যাপটপ এর দাম কত (২০২৬ গাইড), Laptop Price in Bangladesh: আজকের আধুনিক দুনিয়ায় ল্যাপটপ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি পণ্য। পড়াশুনা, অফিসের কর্ম, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং, প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, গেমিং এবং বিজনেস পারপাস বহনযোগ্য পারসোনারল কম্পিউটার হিসেবে: ল্যাপটপের কোন বিকল্প নেই।
অনেকেই নতুন ল্যাপটপ কেনার আগে জানতে চান ল্যাপটপ এর দাম কত, কোন ব্র্যান্ড ভালো এবং কোন কনফিগারেশন বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
বর্তমান বাংলাদেশের ইয়ং জেনারেশন এর চাহিদা ও ট্রেন্ডিং প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুই ধরণের ল্যাপটপ পাওয়া যায়: ১. নতুন ব্র্যান্ড ওয়ারেন্টি ল্যাপটপ, ২. ব্যবহৃত পুরাতন ল্যাপটপ (Used Non-brand Warrenty Laptop).
যাহোক: বাজেট, প্রসেসর, র্যাম, স্টোরেজ, গ্রাফিক্স কার্ড এবং স্ক্রিন সাইজের উপর ভিত্তি করে ল্যাপটপের দাম নির্ধারিত হয়। এই আর্টিকেলে আমি বলবো: বাংলাদেশে ২০২৬ ল্যাপটপের দাম, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মূল্য এবং কোন ল্যাপটপ আপনার জন্য উপযুক্ত হতে পারে।
ল্যাপটপ কি
ল্যাপটপ হলো কম্পিউটারের একটি পোর্টেবল ভার্সন, যা সহজে বহন করা যায় এবং ব্যাটারির সাহায্যে বিদ্যুৎ ছাড়াই কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।
এককথায়: ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতোই ল্যাপটপে বিল্টইনভাবে প্রসেসর, র্যাম, স্টোরেজ, স্ক্রিন এবং কীবোর্ড থাকে। তবে এটি আকারে ছোট এবং বহনযোগ্য হওয়ায় শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য খুবই সুবিধাজনক।
ল্যাপটপ দিয়ে কি কি কাজ করা যায়?
প্রতিনিয়ত ইন্টারনেট আপডেট হওয়ার ফলে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে। ফলস্বরূপ বর্তমানে একটি ডেস্কটপ দিয়ে যেসকল কাজ করা যায়, আপনি চাইলে ল্যাপটপ দিয়েও হুবহু সেই কাজগুলো করতে পারবেন।
তবে যদি ব্যবহারিত (নন ব্র্যান্ড-ওয়ারেন্টি) ল্যাপটপ ক্রয় করতে চান, সেক্ষেত্রে সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু কাজ করার জন্য – বিবেচনা নিয়েই পুরাতন ল্যাপটপ কিনতে পারেন।
আর যদি নতুন ব্র্যান্ড ওয়ারেন্টি ল্যাপটপ কিনতে চান; তাহলে আপনার চাহিদা অনুযায়ী বাজেট নির্ধারণ করে, তারপর কাঙ্খিত ব্রান্ডের ল্যাপটপটি ক্রয়ের জন্য সিলেকশন করবেন।
একটি ল্যাপটপ দিয়ে সাধারণত নিচের কাজগুলো করা যায় –
- ইন্টারনেট ব্রাউজিং
- অনলাইন ক্লাস ও ভিডিও কনফারেন্স
- অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার
- প্রোগ্রামিং ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট
- গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং
- গেমিং
- ফ্রিল্যান্সিং কাজ
- ট্রেডিং
- কারেন্সি মাইনিং
- বিজনেস ব্যবস্থাপনাসহ ইত্যাদি।
নোট: বর্তমানে Windows, Linux এবং MacOS – এই তিন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে বাংলাদেশে সাধারণত Windows ল্যাপটপ সবচেয়ে জনপ্রিয়।
সুতরাং ব্যবহারের সুবিধার্থে – আমি আপনাকে প্রাথমিক ব্যবহারকারী হিসেবে Windows 11 এর OS সেটআপকৃত ল্যাপটপ সাজেস্ট করছি। কারণ, ইউনিউবে ফ্রি’তে windows operating system নিয়ে বাংলা ভাষায় অসংখ্য টিউটোরিয়াল পাবেন। এবং অনাকাঙ্খিত ট্রাবলশোটিং গুলোর সমাধান করতে পারবেন।
তাছাড়া – ইংলিশ ভাষায় তো আমাদের Laptop Post ডট কম সাইটে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাপটপ সংক্রান্ত টিউটোরিয়াল পাবেনই।
বাংলাদেশে ল্যাপটপ এর দাম কত? (Laptop Price in Bangladesh), নতুন মূল্য তালিকা ২০২৬

বাংলাদেশে ল্যাপটপের দাম সাধারণত ১০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ২,৫০,০০০ টাকার বেশি পর্যন্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে Laptop Price নির্ভর করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর।
যেমন:
- প্রসেসরের ধরন (Core i3, i5, i7, i10th, i11th ইত্যাদি) / অথবা AMD Ryzon সিরিজের।
- RAM এর পরিমাণ (DDR2, DDR3, DDR4 এবং DDR5 পর্যন্ত বাংলাদেশে বেশি পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে বেশি DDR3, DDR4 এর 4GB, 8GB রেম মার্কেটে বেশি পাবেন।
- SSD বা HDD স্টোরেজ (NVMe স্টোরেজ হলে: খুবই ভালো পারফরম্যান্স পাবেন)
- গ্রাফিক্স কার্ড
- স্ক্রিন সাইজ ও রেজোলিউশন (14” বা তার বেশি আছে, তবে বহন করতে হলে – যথাসম্ভব ছোট ডিসপ্লের ডিভাইসটি কিনবেন)
- ব্র্যান্ড (জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলো নিচে দিয়েছি…)।
বাংলাদেশে ল্যাপটপের সাধারণ মূল্য তালিকা
| ল্যাপটপ টাইপ | আনুমানিক দাম |
| স্টুডেন্ট ল্যাপটপ | ১০,০০০ – ৫০,০০০ টাকা |
| মিড রেঞ্জ ল্যাপটপ | ৫১,০০০ – ৭৫,০০০ টাকা |
| প্রফেশনাল ল্যাপটপ | ৭৬,০০০ – ১৩০,০০০ টাকা |
| গেমিং ল্যাপটপ | ১৩১,০০০ – ২৫০,০০০+ টাকা |
জনপ্রিয় কিছু ল্যাপটপের দাম (২০২৬)
| মডেল | বাংলাদেশে দাম |
| HP EliteBook 840 G6 | ৳ ২৮,০০০ |
| HP EliteBook 845 G7 Ryzen 5 | ৳ ৩৫,৫০০ |
| HP EliteBook 840 G7 Core i5 | ৳ ৩৪,৮০০ |
| Dell Latitude 3190 | ৳ ১০,৫০০ |
| Lenovo ThinkPad X1 Carbon | ৳ ২৯,৭০০ |
| HP EliteBook 840 G9 | ৳ ৫৫,৫০০ |
নোট: তবে বাজারে নতুন ও ব্যবহৃত ল্যাপটপের দামের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।
বাংলাদেশের সেরা ল্যাপটপ ব্র্যান্ড (Best Laptop Brands in Bangladesh)
বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত এবং সবচেয়ে বেশি ক্রয়-বিক্রয় হওয়া, সেরা কয়েকটি ল্যাপটপের ব্র্যান্ড সম্পর্কে নিচে উপস্থাপন করলাম।
ওয়ালটন ল্যাপটপ প্রাইস ইন বাংলাদেশ (Walton Laptop Price in Bangladesh)

ওয়ালটন বাংলাদেশের নিজস্ব প্রযুক্তি ব্র্যান্ড এবং দেশের নামকরা অন্যতম প্রযুক্তি উৎপাদক কোম্পানী। তুলনামূলক কম দামে ভালো পারফরম্যান্সের জন্য অনেকেই Walton ল্যাপটপ ব্যবহার করেন।
ওয়ালটনের বেশিরভাগ ল্যাপটপ স্টুডেন্ট এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি করা হয়। সাধারণ কাজ যেমন ব্রাউজিং, অনলাইন ক্লাস, অফিস সফটওয়্যার ইত্যাদির জন্য এই ল্যাপটপগুলো বেশ ভালো।
আকর্ষণ: ওয়ালটন কোম্পানি তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের সিল করা ল্যাপটপগুলো (Dell, HP, Walton Local Manufactured etc.) কিস্তিতে, বিশেষ করে স্টুডেন্টদের জন্য কয়েক ধাপের কিস্তিতে ক্রয় করার সুযোগ দিয়ে থাকেG আপনি চাইলে: শো-রুমের কর্মীদের সাথে পরিচিতি আছে, এমন একজন গ্যারান্টরের সাক্ষীতে (সই / সাক্ষর সহ) ওয়ালটনের যে সকল শোরুমে ল্যাপটপ পাওয়া যায়, সেখান থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রথমে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মত জমা দিয়ে, তারপর নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী কিস্তিতে ল্যাপটপ কিনতে পারবেন।
Walton ল্যাপটপের বর্তমান আনুমানিক দাম (২০২৬ সাল এর আপডেট মূল্য)
| মডেল টাইপ | দাম |
| Walton Celeron Laptop | ২২,০০০ – ২৭,০০০ টাকা |
| Walton Core i3 Laptop | ২৮,০০০ – ৪৫,০০০ টাকা |
| Walton Core i5 Laptop | ৪৬,০০০ – ৭০,০০০ টাকা |
Walton ল্যাপটপের সুবিধা
- কম দামে ভালো পারফরম্যান্স পাবেন
- বাংলাদেশে সহজে সার্ভিস পাওয়া যায় (সকল জেলা ও থানা পর্যায়ে সার্ভিস সুবিধা আছে)
- অফিস এবং স্টুডেন্টদের জন্য উপযোগী
- দীর্ঘমেয়াদি ওয়ারেন্টি সুবিধা (সর্বনিম্ন ২ বছর)
নোট: Walton যেহেতু তাদের ল্যাপটপগুলোতে কমিশন ভিত্তিক শোরুমের মালিক বা কর্মীদেরকে অর্থ প্রদান করে থাকে। সেজন্য একজন ক্রেতা হিসেবে, শোরুমের কর্মকর্তার সাথে আপনাকে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। সুতরাং ফিক্সড কোন মূল্য বলা সম্ভব হচ্ছে না, এজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত!
যাহোক– যাদের বাজেট কম কিন্তু নতুন ল্যাপটপ দরকার, তাদের জন্য Walton Brand Laptop একটি ভালো অপশন।
এইচপি ল্যাপটপ প্রাইস ইন বাংলাদেশ (HP Laptop Price in Bangladesh)

এইচপি (HP Laptop) বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ল্যাপটপ ব্র্যান্ড। এর EliteBook, Pavilion, Spectre, Omen সিরিজ বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয়।
HP ল্যাপটপ সাধারণত ভালো বিল্ড কোয়ালিটি, শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফের জন্য পরিচিত। (আমার ব্যবহৃত HP Laptop টি প্রায় ৫ ঘন্টাব্যপী ব্যাটারি বেকআপ দেয়, এবং স্মথলি ব্যবহার করতে পারছি)।
বাংলাদেশে HP ল্যাপটপের দাম
বলা বাহুল্য: এখানে ল্যাপটপের ব্র্যান্ড ও মডেল অনুযায়ী– সর্বনিম্ন মূল্যটি পুরাতন ল্যাপটপের জন্য (Low price only for Used Laptop) এবং সর্বোচ্চ মূল্যটি নতুন ব্র্যান্ড ওয়ারেন্টি যুক্ত ল্যাপটপের জন্য (Higher Price only for New Package and Brand Warranty Laptop) উল্লেখ করেছি।
| মডেল সিরিজ | দাম |
| HP Core i3 Laptop | ৪২,০০০ – ৫৫,০০০ টাকা |
| HP Core i5 Laptop | ৫৬,০০০ – ৮৫,০০০ টাকা |
| HP Core i7 Laptop | ৮৬,০০০ – ১,৬০,০০০ টাকা |
জনপ্রিয় ৪টি এইচপি ল্যাপটপ (Top 4 Popular HP Laptop in Bangladesh)
- HP EliteBook
- HP Pavilion
- HP Spectre
- HP Omen (গেমিং)
স্টুডেন্ট, অফিস ইউজার এবং ডিজাইনার: সব ধরনের ব্যবহারকারীর জন্য HP ল্যাপটপ বেশ নির্ভরযোগ্য।
Laptop Price in Bangladesh 2026 (বর্তমানে ২০২৬ সালে ল্যাপটপের দাম কতো)
বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ পাওয়া যায়। যেমন:
- HP
- Dell
- Lenovo
- Asus
- Acer
- Apple
ল্যাপটপের দাম নির্ভর করে প্রধানত প্রসেসরের উপর। তবে ব্যান্ড, কোম্পানী এবং যাবতীয় কনফিগারেশনের উপর ভিত্তি করে দামের তারতম্য হবে, এটাই স্বাভাবিক! যেমন–
প্রসেসর অনুযায়ী বর্তমানে ল্যাপটপ এর দাম ২০২৬
| প্রসেসর | দাম |
| Intel Celeron | ১০,০০০ – ২৮,০০০ টাকা |
| Core i3 | ২৯,০০০ – ৪৫,০০০ টাকা |
| Core i5 | ৫০,০০০ – ৮০,০০০ টাকা |
| Core i7 | ৮০,০০০ – ১,৫০,০০০+ টাকা |
লেনোভো ল্যাপটপ প্রাইস ইন বাংলাদেশ (Lenovo Laptop Price in Bangladesh)

লেনোভো বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ল্যাপটপ ব্র্যান্ড। বিশেষ করে ThinkPad, IdeaPad এবং Legion সিরিজগুলো বেশ জনপ্রিয়!
Lenovo ল্যাপটপের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:–
- শক্তিশালী পারফরম্যান্স
- টেকসই ডিজাইন
- ভালো কীবোর্ড (টেকসই অত্যন্ত ভালো)
- দীর্ঘমেয়াদী ও সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ব্যাটারি লাইফ ওয়ারেন্টিযোগ্য।
Lenovo ল্যাপটপের দাম (লেনোভো Laptop Prices)
| সিরিজ | দাম |
| Lenovo IdeaPad | ১৪,০০০ – ৭৫,০০০ টাকা |
| Lenovo ThinkPad | ২৫,০০০ – ৯৬,০০০ টাকা |
| Lenovo Legion (Gaming) | ৪৭,০০০ – ২,৫০,০০০ টাকা |
জনপ্রিয় মডেল
- Lenovo ThinkPad X1 Carbon
- Lenovo IdeaPad 3
- Lenovo Legion 5
বিশেষ করে প্রোগ্রামার এবং অফিস ইউজারদের মধ্যে ThinkPad সিরিজ খুব জনপ্রিয়।
উল্লেখ্য যে: Lenovo ব্র্যান্ডের ল্যাপটপের সর্বনিম্ন দাম– পুরাতন ল্যাপটপ (Used Laptop) এর ক্ষেত্রে, এবং সর্বোচ্চ দাম নতুন ব্র্যান্ড ওয়ারেন্টি ল্যাপটপ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ডেল ল্যাপটপ প্রাইস ইন বাংলাদেশ (Dell Laptop Price in Bangladesh)

Dell একটি বিশ্বস্ত এবং দীর্ঘদিনের প্রযুক্তি ব্র্যান্ড। Dell ল্যাপটপ সাধারণত উচ্চ পারফরম্যান্স এবং দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ এর জন্য পরিচিত।
বাংলাদেশের সরকারি উদ্যোগে ল্যাপটপ ব্র্যান্ড: ডুয়েল (Duel Laptop) কিন্তু Dell কোম্পানীর মাদার-ম্যানুফেকচারিং সিস্টেমে তৈরি করা হয়েছিলো: by Telephone Shilpa Sangstha (TSS), যদিও পরবর্তীতে মার্কেটিং কৌশলে টিকতে পারেনি! তবে একসময় ডুয়েল ব্র্যান্ড জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো।
Dell ল্যাপটপের জনপ্রিয় সিরিজ
- Dell Inspiron
- Dell Latitude
- Dell XPS
- Dell Alienware (Gaming)
Dell ল্যাপটপের দাম (ডেল Laptop Price in Bangladesh)
| সিরিজ | দাম |
| Dell Inspiron | ১৪,০০০ – ৮৫,০০০ টাকা |
| Dell Latitude | ২৬,০০০ – ৭৮,০০০ টাকা |
| Dell XPS | ৪৫,০০০ – ২,৭০,০০০ টাকা |
Dell Latitude সিরিজ অফিস ব্যবহারের জন্য খুবই জনপ্রিয়।
নোট: সর্বনিম্ন দাম ইউজকৃত ডিভাইস এবং সর্বোচ্চ মূল্য: ফ্রেশ নতুন কোয়ালিটির ল্যাপটের জন্য বিবেচনা করবেন।
ল্যাপটপ কেনার আগে যেসকল বিষয়ে জানা উচিত
ল্যাপটপ কেনার আগে যে বিষয়গুলো দেখবেন (নতুন বা পুরাতন, যাই হোক না কেনো): –-
১. স্ক্রিন সাইজ (Display Size)
১৪ ইঞ্চি ল্যাপটপ বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য যথেষ্ঠ ডিসপ্লে সাইজ। তবে আপনার চোখের আরামদায়কতা ও বিশেষ ব্যবহারের জন্য, সঠিক চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারণ করবেন।
আমি দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করি, সেজন্য 15” ইঞ্চি সাইজের ডিসপ্লে/স্ক্রিনে কাজ করতে পছন্দ করি।
২. র্যাম RAM (Random Access Memory)
বর্তমানে কমপক্ষে ৮GB RAM নেওয়া ভালো। তবে ৪ জিবি RAM (Random Access Memory) নিলেও, প্রাথমিক অবস্থায়: টুকিটাকি কাজ করতে পারবেন।
আমি Visual Studio (কোডিং এর জন্য VS Code), Adobe Premiere Pro 2020 এবং Photoshop Portable ভার্সনের সফটওয়্যারগুলো DDR4 সিরিজের 4 GB RAM দিয়ে অনায়াসে করে এক্সপেরিমেন্ট চালিয়েছি। প্রায় ৩ সপ্তাহের এই পরিক্ষামূলক ব্যবহারে একবারের জন্যও হ্যাঙ করেনি।
তবে DDR3 RAM হলে, আমি মিনিমাম 8 GB RAM নেওয়ার সাজেস্ট করবো (DDR4 সিরিজের তুলনায় DDR3 সিরিজের দাম তুলনামূলক অর্ধেক! মানে: অর্ধেকদামে ৪ জিবি DDR4 এর পরিবর্তে ৮ জিবি DDR3 র্যাম কিনতে পারবেন)।
নোট: পুরান ঢাকার এলিফেন্ট রোডের (নীলক্ষেত নিউ মার্কেটের পাশে অবস্থিত) কম্পিউটার সিটি মার্কেট ও শুভাস্ত আর্কেট মার্কেটে দরদাম করে – বুঝে ও বিবেচনা করে – আরো কমদামে ভালো মানের র্যাম “লট আকারে” কিনতে পাওয়া যায়।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা: র্যাম সাধারণত নষ্ট হয়না, তাই ইউজেড (ব্যবহৃত) RAM কিনতে পারেন। তবুও যাচাই বাছাই করে – কিনবেন। কারণ, প্রতি ১,০০০ র্যামের মধ্যে এভারেজে ৩টি র্যাম নষ্ট থাকার অথবা দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৩. স্টোরেজ (Hard Disk/ ROM)
SSD থাকলে ল্যাপটপ অনেক দ্রুত কাজ করে। এক্ষেত্রে আপনাকে বুঝতে হবে:
SATA SSD (mini Hard disk) এবং NMVe SSD এক নয়। যদিও বড় সাইজের হার্ড ডিস্কের তুলনায়, মিনি হার্ডডিস্ক (শাটা এসএসডি) ভালো পারফরম্যান্ড দেয় [ সাধারণত বর্তমানের সকল ল্যাপটপে’ই SATA SSD / Mini Hard Disk থাকে, তবে ডেস্কটপের জন্য – অবশ্যই দোকানদারকে বলবেন যেনো: SATA SSD দিতে ]।
তবে অতিরিক্ত ২ – ৫ হাজার টাকা বাজেট থাকলে: সাথে NMVe SSD Card নিবেন (দেখতে অনেকটা DDR3 RAM এর মতো প্রায়)। এটি আপনার ডেস্কটপ বা লেপটপ’কে দ্রুত গতি সম্মন্ন করে তুলবে।
ভিডিও এডিটিং, গেমিং, অনলাইনে মাইনিং বা ট্রেডিং এবং প্রোগ্রামিং এর মতো ভারী কাজ করার ক্ষেত্রে – আপনার ল্যাপটপ ডিভাইস যাতে হ্যাং না করে, বা স্লো না হয়! সেজন্য অবশ্যই এনভিএমই এসএসডি কার্ড (NVMe SSD) ব্যবহার করবেন (এবং এই মেমোরিকার্ডেই আপনি Windows বা পছন্দের অপারেটিং সিস্টেমটি ইনস্টল ও সেটআপ করবেন)।
আর যদি আপনার অনেক ফাইল থেকে থাকে, যা স্টোরেজ করতে হবে: যেমন 100 GB upto 500 GB বা 1TB সাইজের, তাহলে সাথে অবশ্যই একটি সাটা এসএসডি হার্ডডিস্ক (Mini Hard Disk) নিবেন।
৪. ব্যাটারি লাইফ (Battery Lifetime)
৩–৭ ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ ভালো ধরা হয়।
নোট: যদি আপনি ব্যাটারির লাইফটাইম চান, অর্থাৎ দীর্ঘদিন যাবত ব্যবহার করতে চান: তাহলে অবশ্যই এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ (HP Laptop) কিনবেন। আর যদি দীর্ঘ সময় ধরে, যেমন ৫-৭ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ চান; তাহলে অবশ্যই Lenovo ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ আপনার পছন্দে থাকা উচিত।
৫. কীবোর্ড (Keyboard)
ব্যাকলিট কীবোর্ড হলে রাতেও সহজে কাজ করা যায়।
আমার অভিজ্ঞতা: ল্যাপটপের দুইটি পার্টস সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয়: ১. কিবোর্ড, ২. টাচপ্যাড (যা আমরা মাউস হিসেবে ব্যবহার করে থাকি)। সুতরাং আপনার ল্যাপটপের বিল্ট ইন কৃত কিবোর্ডটি ব্যবহারের পাশাপাশি, দীর্ঘ সময় টাইপিং এর জন্য একটি এক্সটার্নাল a4tech এর বা ব্র্যান্ডএবল স্টারটেক এর কিবোর্ড ব্যবহার করবেন। এবং ল্যাপটপের ইন্টারনাল কিবোর্ডটির উপর একটি জার্ম প্রটেক্টর ব্যবহার করবেন (সাধারণত ১০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে)।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ল্যাপটপ এর দাম নিয়ে যতো কথা-
ল্যাপটপ এখন শুধু একটি প্রযুক্তি ডিভাইস নয়! বরং শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার এবং পেশাজীবীদের জন্য একটি অপরিহার্য টেক টুল। আপনি যদি জানতে চান ল্যাপটপ এর দাম কত, তাহলে বলতে হবে বাংলাদেশে ল্যাপটপের দাম সাধারণত ১০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ২,৫০,০০০ টাকারও বেশি হতে পারে।
অবশ্যই নতুন (Used Laptop) এবং নতুন ল্যাপটপ (Fresh Brand Warrenty New Laptop) হিসেবের মূল্যের তারতম্য বিবেচনা করতে হবে।
সংক্ষেপে ল্যাপটপের বর্তমান দাম (Current Price of Laptop in Bangladesh)
- স্টুডেন্টদের জন্য ২০,০০০ – ৪৫,০০০ টাকার ল্যাপটপ যথেষ্ট
- সাধারণ অফিস কাজের জন্য ৪৬,০০০ – ৭৫,০০০ টাকার ল্যাপটপ ভালো
- ডিজাইন বা গেমিংয়ের জন্য ৮৬,০০০ টাকার বেশি বাজেট প্রয়োজন
Walton, HP, Dell, Lenovo সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড বাংলাদেশে জনপ্রিয়। তাই ল্যাপটপ কেনার আগে অবশ্যই প্রসেসর, RAM, SSD, ব্যাটারি লাইফ এবং স্ক্রিন সাইজ ভালোভাবে দেখে নিবেন।
মনে রাখবেন: সঠিক ল্যাপটপ নির্বাচন করলে, আপনি অনেক বছর স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারবেন।